আক্ষেপ
কার আক্ষেপ কত বড়? আমাদের চারপাশে রয়ে যাওয়া
পরিবেশ এ যারা আছেন কিংবা আছি। এমন কোন মানুষ পাওয়া যাবেনা, যার জীবনের প্রাপ্তি ও
অপ্রাপ্তি নিংয়ে কোন আক্ষেপ নেই। একজনের চেয়ে অন্য জনের আক্ষেপ, কস্ট আরো বেশী। এত
বেশী যে সমস্ত কিছুর উর্দ্ধে তার সেই আক্ষেপ। জীবন বোধ হয় এমনই সুন্দরের সাথে অসুন্দরের
মিলন।যার যত আছে তার তত চাই । তত তার আক্ষেপ। আবার যে যত ফাকিবাজ তার আরো ফাকি দেবার
সুযোগ চাই। তার সেই ফাকি দেবার সুযোগ হচ্ছে না বলে আক্ষেপ এর অন্ত নেই । আমরা যারা
বিভিন্ন সময়ে নীতি বাক্যর কাছে দিয়ে যাই। তারাও কিন্তু ঠিক সময়ের অপেক্ষায় থাকি। নীতি
নৈতিকতা সমস্ত কিছুই শুধুমাত্র নিজের জন্য। নিজের বাইরে গেলে সব কিছুই মলীন হয়ে যায়।
যাদের চোখ থাকতে বিভিন্ন কিছু দেখার সুযোগ হয়না তারাই বার বার নিজের হয়নি বা নিজের
সাথে মেলেনি বলে গলার স্বর উচু করতে থাকেন। তারা ভুলে যান তাদের কতর্ব্য কিংবা চাওয়াটাই
ভুল ছিল।সত্য বলতে ভূলের সাথে বসবাস করে ভূলকে ধরা তো সহজ কথা নয়। আমাদের মনের ভিতরে
যে বড় রকমের ঝামেলা চলছে সেটা খুজে বের করাও প্রায় অসম্ভব। আল্লাহ এর বানীতে তিনি উল্লেখ
করেছেন যারা নিজেদের অজ্ঞ বানিয়েছেন তাদের মনের মধ্যে মোহর মেরে দিয়েছেন। এর ফলে সারাজীবনের
কোন একসময়ে নিজের কিংবা কাজের ভূল কোনটাই ধরতে পারবে না । একটা প্রচলিত উদাহরন দিতেই
পারি। কোন এক অফিসের ছোট পোস্টের কর্মচারী প্রায়শই কিছুটা সময় দেরীতে অফিসে আসেন। আর
উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ দেরী করেন ২-৩ ঘন্টা। এর বিচার কি হতে পারে। যদিও আমাদের দেশের
সংস্কৃতি অনুযায়ী উর্দ্ধতন এর শাস্তি লঘুদন্ডই হবে। আর পোস্টে ছোটজনের সবোর্চ্চ শাস্তির
বহাল থাকবে। একই ঘটনার দুজনের দুধরনের বিচার যেমন হবে ঠিক তেমনি দুজনের আক্ষেপ এর ধরনটাও
দুরকমের হবে। আর এ ঘটনায় দুজনেরই আক্ষেপের পাল্লা ভারী হতে থাকে, নিজেরাও জানিনা কেন
বাড়ছে নিজের রোগ অচিন্তা কিংবা আরো নানা রকম হতাশা। আমাদের জীবনটাই এমন নিজেরা নিজের
বাইরে কোন কিছুই চিন্তা করতে যে পরিমান সৎ জ্ঞান থাকা প্রয়োজন সেটা আমাদের নাই। নিজের
স্বার্থের বাইরে গিয়ে অন্যর জন্য কোন কিছু ভাবতে পারিনা। এ নিয়ে আমাদেরে কোন ক্ষোব
আক্ষেপ হয়না। শুধু নিজের জন্যই যত ক্ষোভ আফসোস আক্ষেপ বিদ্যমান। আমাদের ভাবনা গুলোকে
শুধুমাত্র নিজের করে পাওয়র জন্যই যত আফসোস আক্ষেপ। আর এভাবে নিজের জন্য ভাবতে থাকলে
একটা সময় আক্ষেপ কেন্দ্রিক জটিলতা বাড়তে থাকবে আর সেই সাথে আক্ষেপ কেন্দ্রিক বুদ্ধি
ভিত্তিক চর্চা এত বেশী প্রসার হবে যে আমরা
শুদ্ধ জ্ঞান চর্চা থেকেই দুরে চলে যাবে।
Comments
Post a Comment
thank you for your comments