মানুষ তার কর্মের মাধ্যমে কত বড় হতে পারে সেটা
আমাদের ভাবনার বাইরে। সৃষ্টিকর্তা আমাদের উত্তম রুপে সৃষ্টি করেছেন। স্রস্টার প্রতিটি
সৃস্টির উপর আমাদের নিয়ন্ত্রন করবার ক্ষমতা দিয়েছেন। মানুষ নিয়ন্ত্রন করতে পারে এটাই
সত্যি। আমাদের কর্মময় জীবনের নানা বাকে নানা
রকমের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই বিস্তর জীবনকালে মানুসের প্রশংসা না করে পারা যায়না।কার যোগ্যতা
কতটুকু আর কোথায় তার যোগ্যতা সেটা আমরা মানুষ নামের অমানুষগুলো বুঝতে চাইনা । আর যদি
চাইতাম তাহলে সৃষ্টিকর্তাকে যাকে উত্তম বলেছেন তাকে কখনো ছোট করে দেখতাম না। জীবনের
এই বিস্তর সময় আমাদের কতশত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করে। আমরা সব দেখি কিন্ত আবার কিছুই
দেখিনা হয়তো দেখি কিন্তু বুঝতে পারিনা। আবার এমন ও হয় বুঝলে নিজের কর্তৃত্ব থাকবেনা
ভেবে অন্ধ হয়ে বসে থাকি। আমাদের সমস্যা হয়ে গেছে আমরা লেবাস দেখে সব কিছু বিচার করি
সেই সাথে অবস্থানটাও বিবেচনায় রাখি। আমার আর সেই মানুষের সাথে কত ব্যবধান চিন্তাই মাথায়
ঘোরে আর একটা সময় সেটাই আমাদের কর্মে রুপান্তরিত হয়। আমরা নিজদেরেকে মানুষ বলে দাবি
করি কিন্তু আসল মানুষ হয়ে উঠতে চেস্টা করিনা। মানুষকে আল্লাহতালা বেশকিছু জিনিস দিয়েছেন
যেগুলো অণ্য কোন প্রানীকে দেওয়া হয়নি এর এইগুলোর উপর ভর করেই মানুষ শ্রেষ্ঠ থেকে শ্রেষ্ঠতর
হয়েছে। যাদরকে আমরা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করি তারাও যে কত বড় মাপের মানুষ তা আমরা কল্পনাও
করতে পারিনা । আমাদের কল্পনা শক্তিও মাঝে মাঝে হার মেনে যায় বাস্তবতা উপলদ্ধি করার
পর। আসলে আমরা যারা নিজদেরকে মানুষ হিসেবে দাবি করি তারা কতটুকু বোধগম্য সম্পন্ন সেটা
একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। যাদেরকে অতি সাধারন বলে বিবেচনা করি তারা অসাধারন তারা এমন
জিনিস নিয়ন্ত্রন করে যা সাধারন মানুষেরা কল্পনা করতেও পারিনা। অক্ষরজ্ঞান থাকলেই তাকে
শিক্ষিত কিংবা মার্জিত এর উচু লেবেল ভাবা যে কতটা বোকামি সেটা বোধগম্য সম্পূর্ণ মানুষ
ই বুঝতে পারে। কোন মানুষকেই ছোট করে দেখা উচিত নয়। সময়ের কাছে হয়তো আমি শ্রেষ্ট কিন্তু
অসময়ে আমি খুবই নগন্য একজন মানুষ। হিংসা, অহংকার,
লোভ, ক্রোধ সকল কিছু থেকে মুক্ত থাকতে পারলেই মানুষ মহান। আর আমাদের এই মহানুভতা ই
আমাদের শক্তি। যেখানে স্রস্টা মানুষকে শ্রেষ্ঠ করে পাঠিয়েছে সেখানে আমরা কে যারা কথায়
কথায় অণ্যকে বিচার করছি। নানা রকমের কথা শোনাচ্চি। আমরা একজন অতিসাধারন মানুষের কাছেই
বাচ্চা সমতুল্য তাই আমাদের অর্জন নিয়ে গর্ববোধ না করে কর্ম আর কল্যানের পথে সবসময় ভাবনা
অগ্রসর করাই উত্তম।
কোরআনের একাধিক আয়াতে মানুষকে সৃষ্টির সেরা বা আশরাফুল মাখলুকাত বলা
হয়েছে,
যার মধ্যে সুরা বনি ইসরাইলের ৭০ নং আয়াত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই আয়াতে বলা হয়েছে, "আর অবশ্যই আমি আদম-সন্তানদের মর্যাদা দান করেছি। স্থলে ও
সমুদ্রে আমি তাদের চলাচলের বাহন দিয়েছি এবং পবিত্র জিনিস দিয়ে আমি তাদের রিজিক
দান করেছি, আমি অন্য যত কিছু সৃষ্টি করেছি তার
অধিকাংশের ওপরই তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।"। এছাড়াও, সুরা তিনের ৪ নং আয়াত মানুষকে "সুন্দরতম অবয়বে" সৃষ্টি করার কথা
বলে।
- সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৭০: আল্লাহ বলেছেন, "আর অবশ্যই আমি আদম-সন্তানদের মর্যাদা দান করেছি। স্থলে ও সমুদ্রে আমি
তাদের চলাচলের বাহন দিয়েছি এবং পবিত্র জিনিস দিয়ে আমি তাদের রিজিক দান
করেছি, আমি অন্য যত কিছু সৃষ্টি
করেছি তার অধিকাংশের ওপরই তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।"।
- সুরা তিন, আয়াত ৪: এই আয়াতে বলা হয়েছে, "অবশ্যই আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতম
অবয়বে।"।
Comments
Post a Comment
thank you for your comments