ঈদের মানে বুঝি কি? না। তা–ই নিয়ে এ নিবন্ধ। আল্লাহ যখন দুটি ঈদ দিলেন মুসলমানদের জন্য, তঁাদের অনেকেই ভাবলেন ৩০ দিন না খেয়ে ও সারা রাত ইবাদত করে একটি দিন আসবে যখন সকালে উঠে যেতে হবে ঈদের মাঠে। তারপর? ঈদ শেষ হলো। এতে খুশি কোথায়, আনন্দ কোথায়? এ তো শুধু আত্মনিবেদন, নিজের নিগ্রহ, শুধু দেওয়া, এখানে তো নেওয়ার কিছু নেই। এটাই বোঝার ভুল। দেওয়ার মধ্যেই আনন্দ, দেওয়ার মধ্যেই সুখ, দেওয়ার মধ্যেই ঈদের প্রকৃত সম্মান, সেটি আমরা বুঝতে পারিনি। ঈদের মাঠে অসংখ্য ভিক্ষুক দাঁড়িয়ে থাকে সামান্য একটু খাবারের প্রত্যাশায়। আমরা নতুন কাপড়চোপড় পরে, আতর লাগিয়ে, চোখে সুরমা দিয়ে আলিঙ্গন করি দুটি ঈদকে। এখানে কতটুকু স্বার্থত্যাগ, কতটুকু জীবনের সাধের জলাঞ্জলি, তা কি ভেবে দেখেছি? এখানেই ঈদের আনন্দ লুকিয়ে আছে।
পৃথিবীর বাইরে যা কিছু, সবই লুকোনো। আল্লাহ যা দেবেন আমাদের স্বার্থত্যাগের বিনিময়ে তার শত ভাগের এক ভাগও কোথাও লেখা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে তোমাকে এমন কিছু দেব যা তোমাদের কল্পনার অতীত। বিধর্মী লেখকেরা এটাকে হাস্যকর করে উপস্থাপন করার চেষ্টায় নিয়োজিত প্রথম দিন থেকেই। কখনো হুর পরি, কখনো গেলমানদের অন্যায় দৃষ্টিকটু উপমা স্থাপন করে। তা তো নয়। আল্লাহ চেয়েছেন পরিপূর্ণ সুষমায় পরিপূর্ণ আনন্দে আমাদের ভাসিয়ে দিতে। সেখানে কোথাও জাগতিক দৈহিক সুখের কথা বলা হয়নি। বলা হয়েছে, এমন সুখ যা পৃথিবীতে কেউ কল্পনাও করেনি। নর-নারীর জৈবিক সুখ এর কাছে কিছুই নয়। বংশবৃদ্ধির প্রয়োজনে যে মিলনটুকুর সঙ্গে আমাদের পরিচয়, তা এর কাছে সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত।
Comments
Post a Comment
thank you for your comments